1. admin@banglarraz24.com : banglarrazrobin :
মিরপুরের কিংবদন্তী নায়ক মরহুম হারুন আল রশিদ মোল্লাহ্ - Banglarraz24
শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন

মিরপুরের কিংবদন্তী নায়ক মরহুম হারুন আল রশিদ মোল্লাহ্

  • প্রকাশ কাল : বুধবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৪
  • ৪১ জন দেখেছে
মিরপুরের কিংবদন্তী নায়ক মরহুম হারুন আল রশিদ মোল্লাহ্

অবিভক্ত ভারতবর্ষের মোঘল আমল, বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন, স্বদেশী আন্দোলন, ১৯৪৭ সালের ভারতভাগ, ৬৬’র ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯’রগনঅভূথান, ৭০ এর সাধারণ নির্বাচন, ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ৯০ এর গণআন্দোলন সহ প্রতিটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রচনায় রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে আজকের এই লাল সবুজের বাংলাদেশ। মিরপুর

google news : banglarraz24

সেই বাংলাদেশ নামক স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্থাপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অদম্য অনুসারী মিরপুরের মোল্লাহ্ পরিবারের খ্যাতিমান রাজনীতি বিদ এবং একটি ঘুনে ধরা সমাজ বিনির্মানের এক অনন্য মানবহিতৈশী ব্যক্তিত্বের নাম মরহুম হারুন আল রশিদ মোল্লাহ। বংশীয় সুনাম আর ঐতিহ্য রক্ষার লড়াইয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভালবাসায় সিক্ত এই কিংবদন্তি মানুষটি শৈশব ও কিশোর বয়সেই অত্যন্ত মেধাবী, কর্মচঞ্চল এবং বলিষ্ঠ দেহের অধিকারী ছিলেন।

স্বাধীনতার পূর্বে হরিরামপুর ইউনিয়নের সিদ্ধান্ত হাইস্কুলে মেট্রিক পাশ করার পর কিছু সময়ের জন্য পৈত্রিক ব্যবসা বানিজ্য দেখাশুনা ও সামাজিক কর্মকান্ডে মনযোগী হয়ে পড়েন। ১৯৬৯’এর গণঅভ্যূত্থান ও ৭০’র সাধারন নির্বাচনকালীন সময়ে নিজেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় করেন। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষনের পর দেশপ্রেমে উদ্ভদ্ধ হয়ে তিনি নিজস্ব মুক্তিবাহিনী নিয়ে পাকিস্থানী স্বৈরাশাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ঝাপিয়ে পড়েন মহান মুক্তিযুদ্ধে।

তারই নেতৃত্বে এক সময়ের পূর্ব পাকিস্তানের দুর্ভেদ্য ঘাটি মিরপুর এলাকার উর্দূ ভাষা-ভাষি অঞ্চল সর্বশেষ ৩১ শে জানুয়ারী ১৯৭২ সালে পাক হানাদারদের কবল থেকে অবমুক্ত হয়। ৭৫’র পরবর্তি সময়ে ১৯৮০’র দশকে আওয়ামীলীগের দুঃসময়ে রাজধানী ঢাকার সকল আন্দোলন সংগ্রামে বলিষ্ঠ নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিত্ব ছিলেন আলহাজ্ব হারুন আল রশিদ মোল্লাহ্। ১৯৭৬ সালে হরিরামপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল এলাকা নিয়ে গঠিত মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রথম পৌরসভা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

সেই সময় শুধু বংশীয় ঐহিত্য এবং জনপ্রিয়তাকে পুজি করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সরকার মদদপুষ্ট প্রার্থী আকরাম হোসেনের দাড়িপাল্লা মার্কাকে হারিয়ে প্রথম পৌর চেয়াম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি এবং এই জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতায় ১৯৯১ সালের ২রা ফেব্রুয়ারী পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনে প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মিরপুর সেনানিবাস স্থাপন করার জন্য তিনি বঙ্গবন্ধুকে বিশাল আয়তনের জমি উপহার দিয়ে ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেন।

মিরপুরের নাট্য সংঘঠন, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে ব্যাপক আর্থিক অনুদান প্রদান করতেন তিনি, এছাড়া মিরপুর অঞ্চলে অসংখ্য স্কুল কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, খেলার মাঠ, ঈদগাহ্ ময়দান তার তত্ত্ববধায়নে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বরেণ্য এই রাজনীতিবীদ ও সমাজ সেবক ১৯৯২ সালে ২৪ শে নভেম্বর পরলোকগমন করেন । তার ব্যক্তি জীবনের কল্যানময় কর্মকান্ড ও পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণে মহান এই ব্যাক্তির মৃত্যুর এত বছর পরও ঢাকাবাসী এখনও কৃতজ্ঞচিত্তে শ্রদ্ধার সহিত তাকে স্মরন করে আসছে।

পিতার বংশমর্যাদা ও সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে তার চার পুত্রই মিরপুর বাসীর সেবা ও কল্যানে একই ভাবধারায় কাজ করে চলেছেন। যার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত-তার সুযোগ্য উত্তরসূরী আলহাজ্ব ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ্, যিনি ঢাকা-১৬ আসনে টানা ৪ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জনকল্যানমুখী কাজ করে আসছেন। এছাড়া বর্তমানে তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে দায়িত্বরত আছেন, পাশাপাশি বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সম্মানিত গর্ভনর হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে দায়িত্ব অর্পন করেছেন।

তাই কালের বিবর্তনে মোল্লাহ্ পরিবারের ধারাবাহিক এতিহ্য, আদর্শ ও কল্যানকর কাজের জন্য মিরপুরের মাটি ও মানুষের অন্তওে চিরঅম্লান হয়ে থাকবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

লেখক: মিজানুর রহমান মিন্টু
সাঃ সম্পাদক, হারুন মোল্লাহ্ স্মৃতি পরিষদ

খবরটি শেয়ার করুন

এ ধরনের আরও খবর
© All rights reserved © 2019 banglarraz24.com
Theme Customized By BreakingNews